সূর্যের কলঙ্ক কি?
শক্তিশালী দূরবীণের মধ্যে দিয়ে সূর্যের গায়ে যে কালো অংশ দেখা যায় তাকেই সূর্যের কলঙ্ক বলে। চৌম্বক ক্ষেত্রের ক্রিয়ার ফলে সূর্যের উপরিভাগের কিছু জায়গা অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা হয়ে গেলে সেই জায়গায় ঔজ্বল্য অনেকটা কমে আসে এবং অপেক্ষাকৃতভাবে কালো দেখায়। প্রথমাবস্থায় সৌর কলঙ্ক ২০,০০০ মাইল বা তার চেয়েও বড় হতে পারে। প্রত্যেক ১১ বছরে সৌর কলঙ্কের সংখ্যা বেড়ে কমবেশি ১০০ পর্যন্ত হয়, সেই সাথেই শুরু হয় সৌরি ঝটিকা বা সোলার উইভ।
ছায়াপথ (গ্ল্যাক্সী) কি?
পরিষ্কার রাত্রিতে আকাশের উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত যে হালকা উজ্জ্বল মেঘের মত বস্তু দেখা যায় তাকেই বলে ছায়াপথ বা আকাশগঙ্গা। আসলে এই মেঘ বহু দূরত্বে অবস্থিত অসংখ্য নক্ষত্রের সমাবেশ। এটি আমাদের নক্ষত্র জগতের অংশ।
আমাদের নক্ষত্র জগতে কতগুলো নক্ষত্র আছে?
আমাদের নক্ষত্র জগতে কম বেশি ২ x ১০১ টি নক্ষত্র আছে। এটি দেখতে চ্যাপ্টা চাকতির মত, কেন্দ্রের কাছে কিছুটা গোলাকার। এর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দূরত্ব প্রায় ১০º আলোকবর্ষ। আমাদের সৌরজগত, এর
মধ্যতলে, কেন্দ্র থেকে ব্যাসার্ধের প্রায় ভাগ দূরে অবস্থিত।
আলোকবর্য কিসের একক?
জ্যোতির্বিদ্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত দূরত্ব মাপার একটি একক। আলোক এক নক্ষত্র বছরে যতটা পথ যায় তাকেই বলে এক আলোকবর্ষ। সেকেন্ডে আলো ১,৮৬,০০০ মাইল যায়, সুতরাং এক আলোকবর্ষ = ৯.৪৬১ × ১ কিলোমিটারের সমান ।
বিশ্বজগৎ কতটা বিশাল?
বিশ্বজগতের সীমা আজও মানুষের ধারণার বাইরে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কৌশল মানুষের অনুসন্ধানকে বিশ্বজগতের বহুদূর অবধি নিয়ে গেলেও এর কোনো
শেষ দেখা যাচ্ছে না। মাউন্ট গালোমারে অবস্থিত ২০০ ইঞ্চি ব্যাসের Hale দূরবীণে আমরা দেখতে পাই ১০% মত্ব এবং আমাদের চোখে ধরা দিয়েছে যার ১০টি বিভিন্ন নক্ষত্র জগৎ। প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ স্যার আর্থার এডিংটনের ধারণায় বিশ্বজগতে প্রায় ১০১টি নক্ষত্র থাকা সম্ভব। এই বিশ্বজগতের বাইরে অন্যান্য বিশ্ব জগৎ আছে কিনা তা ধারণা করা আজও সম্ভব হয়নি।
পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র কি?
পৃথিবীল নিকটতম নক্ষত্র হল প্রক্সিমা সেন্টাউরি (Proxima Centauri) পৃথিবীর থেকে এর দূরত্ব ৪.৩ আলোকবর্ষ।
আমাদের নিকটতম ছায়াপথ কি?
আমাদের নিকটতম ছারপথ হল কালপুরুষ নীহারিকা। এটা আমাদের থেকে ১০০০ আলোকবর্ষ দূরত্বে অবস্থিত। এর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের মাপ ১০ মাইল বা ১৬ আলোকবর্ষ।
ধূমকেতু কি?
নামটি গ্রহ ছাড়াও আমাদের সৌরজগতের কয়েকটি সদস্য আছে। এগুলোকে বলে ধূমকেতু। সূর্যের চারদিকে এরা বড় উপবৃত্তাকার কক্ষে পরিক্রমা করছে। এগুলো ছোট পদার্থকণা আর গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি, এদের আয়তন পৃথিবী এমনকি বৃহস্পতির সমান হলেও এদের ভর খুব কম। সেই জন্যই পৃথিবীর খুব কাছে এলে ধূমকেতু দেখা যায়।
হ্যালির ধূমকেতু কবে দেখা যাবে?
হ্যালির ধূমকেতু খুবই প্রসিদ্ধ। ১৬৮২ সালে বৃটিশ জ্যোতির্বিদ এডমন্ড হ্যালি একে প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন এবং অন করে দেখান যে ৭৬ বছর পর পর এই ধূমকেতুর আবির্ভাব ঘটবে। হিসাব মত ২০৬২ সালে হ্যালির ধূমকেতুটুটি আবার দেখা যাবে।