তারামণ্ডল কাকে বলে?
বিভিন্ন তারাদের পর্যালোচনার সুবিধার জন্য জ্যোতির্বিদরা সমগ্র আকাশ ৮৮ ভাগে ভাগ করেছেন। এই ভাগগুলিই হল বিভিন্ন তারামণ্ডল। কোনো একটা জ্যেতিস্কের অবস্থান জানতে হলে প্রথমেই জানা দরকার এটি কোন তারামণ্ডলে আছে, এই তারামণ্ডলগুলোর বিশেষ চেহারা থেকে এদের চেনা যায় যেমন সপ্তর্ষিমণ্ডল বা কালপুরুষ ইত্যাদি
নক্ষত্রমাত্রা কি?
পৃথিবী থেকে দৃষ্টিগত ঔজ্জ্বল্য অনুসারে তারাদের ছয়ভাগে ভাগ করা হয়। অতি উজ্জ্বল তারাগুলোকে প্রথম মাত্রায় বা প্রভাবের তারা আর খালি চোখে দেখার শেষ সীমায় যারা তাদের ষষ্ঠ মাত্রার বলা হয়। বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই শ্রেণী বিভাগ করার জন্য প্রথম ও ষষ্ঠ মাত্রার তারাদের ঔজ্জ্বল্যের অনুপতা ধরা হয় ১০০। অর্থাৎ দুটো পাশাপাশি মাত্রার তারাদের ঔজ্জ্বল্যের অনুপাত ধরা হয় √১০০=২.৫২১। তারার উজ্জ্বলতা যত বাড়ে তার নক্ষত্র মাত্রা তত কমে।
চোখে দেখে তারা আর গ্রহ কিভাবে চেনা যায়?
গ্রহরা স্থির আলো দেয়। তারাদের মনে হয় সবসময়ই চমকাচ্ছে অথবা দপদপ করছে। সাধারণ দূরবীণ দিয়ে দেখলেও একই রকম মনে হয়। এর থেকেই গ্রহ আর তারাদের চেনা যায়।
তারাদের শক্তির উৎস কি?
তারাদের শক্তির মূল উৎস হল পরমাণু কেন্দ্রীন বিক্রিয়া তারাদের কেন্দ্রস্থলে হাইড্রোজেন গ্যাসের দুটি আইসোটোপ, ডয়টেরিয়াম এবং ট্রাইটিয়ামের মধ্যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয় হিলিয়াম এবং প্রচণ্ড শক্তি।
সূর্যের উষ্ণতা কত?
সূর্যের উপরিভাগের উষ্ণতা প্রায় ছয় হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস আর কেন্দ্রের উষ্ণতা দুই কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। মূল ধারার নক্ষত্রদের উষ্ণতা প্রায় সবারই দুই কোটি ডিগ্রির কাছাকাছি এবং উষ্ণতা কেন্দ্রীয় বিক্রিয়া শুরু হয়।
পৃথিবীর কোথায় ছায়ার দৈর্ঘ সবসময় সমান?
মেরুদেশে কোনো কোনো বস্তুর ছায়ার দৈর্ঘ্য সবসময়ই প্রায় সমান থাকে কারণ সেখানে সিগন্তের সমান্তরালে চলে।
মানুষের তৈরি প্রথম উপগ্রহ কবে আকাশে ওঠে?
মানুষের তৈরি প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ “স্পুটিনিক-১” সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) থেকে ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর আকাশে উৎক্ষিপ্ত হয় এবং সফলভাবে কক্ষে স্থাপিত হয়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে শুরু করে।
কৃত্রিম উপগ্রহেরা পৃথিবর কক্ষে থাকে কিভাবে?
কৃত্রিম উপগ্রহেরা নির্দিষ্ট কক্ষপথে থাকে তখনই যখন তাদের আবর্তনের ফলস্বরূপ কেন্দ্রাতিগ বল তাদের উপর মধ্যাকর্ষণ বল ততই কমবে ফলে তার আবর্তনের বেগও কম হবে। প্রায় ২২,০০০ মাইল দূরের উপগ্রহ ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীকে এক পাক দেবে, অর্থাৎ পৃথিবীর পরিপ্রেক্ষিতে এর কোনো গতি থাকবে না। এই 'ভুসমলয়' উপগ্রহের সাহায্যে উপগ্রহ মারফৎ যোগাযোগ, বেতার ইত্যাদি সম্ভব হচ্ছে।
চন্দ্রবলয় বা মুনরিং দেখা যায় কেন?
ঘন অন্ধকারে যে কোনো আলোর চারিদিকেই একরকম আভা দেখা যায়। চাঁদের থেকে প্রতিফলিত আলোর সেইরকম আভাকে চন্দ্রবলয় বা মুনরিং বলা হয়।
শনির বলয় কি?
শনিকে ঘিরে তিনটি বলয় দেখা যায়। বাইরের দুটো পরিষ্কার তবে ভিতরেরটা একটু ঘোলাটে। এগুলো শনিগ্রহকে পরিক্রমরত ছোট পদার্থ নিয়ে গঠিত। ১৬১০ খৃষ্টাব্দে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রথম দুটো বলয় আবিষ্কার করেন। অনেকের মতে শনির কোনো উপগ্রহ, গ্রহের খুব কাছে এসে ভেঙে গিয়ে এই বলয় সৃষ্টি করেছে, যদিও এই ধারণার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।